বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক অভূতপূর্ব মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। স্বনামধন্য ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্না তাদের উদ্ভাবিত ব্যক্তিভিত্তিক এমআরএনএ টিকার তৃতীয় ধাপের আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত এই ফলাফলে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক তথ্য পাওয়া গেছে, যা ভবিষ্যতে ক্যান্সার চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। চলতি সপ্তাহান্তে ইউরোপিয়ান সোসাইটি ফর মেডিক্যাল অনকোলজির বার্ষিক সম্মেলনে এই যুগান্তকারী তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই টিকাটি মূলত মেলানোমার মতো মারাত্মক ত্বকের ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্ট্যান্ডার্ড চিকিৎসার পাশাপাশি এই এমআরএনএ টিকা ব্যবহার করায় রোগীদের দেহে ক্যান্সারের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রতিটি রোগীর টিউমারের জিনগত বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এই টিকাটি তৈরি করা হয়, যার ফলে এটি রোগীর নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নির্দিষ্টভাবে ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে উদ্দীপ্ত করে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যক্তিগত রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার ব্যবহার এবং এমআরএনএ প্রযুক্তির এই সফল প্রয়োগ আগামী দিনে অনকোলজি ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাবে। বর্তমানের প্রচলিত কেমোথেরাপি বা অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াপূর্ণ চিকিৎসার তুলনায় এই টিকা অনেক বেশি নিরাপদ এবং কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক চিকিৎসা মহল এই সাফল্যকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। মডার্না কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে খুব শীঘ্রই এই টিকা সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, যা বিশ্ববাসীকে ক্যান্সার মুক্ত করার লড়াইয়ে এক ধাপ এগিয়ে রাখবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক