সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে নিয়ে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাকে ‘দুই নম্বর লোক, ভণ্ড, প্রতারক ও মিথ্যাবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি অবিলম্বে তার গ্রেপ্তারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন যে, সরকারি দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে ড. আসিফ নজরুল বিভিন্ন জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন এবং জনগণের কাছে দেওয়া নানা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে এই নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, বিপ্লবের পর জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু ব্যক্তির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, যার মধ্যে আসিফ নজরুলের নামও রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতর থেকে যারা জনআকাঙ্ক্ষার সাথে প্রতারণা করেছেন, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দোসররা এই সুযোগে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বিপ্লবের অর্জনকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া হবে না। এদিকে, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সব সময় সংযম ও ঐক্যের বার্তা দিয়ে আসছেন। তার দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি, তারেক রহমান দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং তার নেতৃত্বে দেশ একটি সুশৃঙ্খল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এ ধরনের মন্তব্য ও দাবিগুলো দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের এমন জোরালো অবস্থান সরকারের নীতিনির্ধারক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং বিগত সরকারের আমলের অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে। সাধারণ মানুষও এখন দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক ঘটনার দিকে গভীর দৃষ্টি রাখছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক