বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন

দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে কথা বলতে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ঢাকা

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৩১ am

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

বুধবার (৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আত্মগোপনে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে আজ (বুধবার) সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ। ঢাকা গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করে যে, আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুনর্গঠনে এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও এই প্রকাশ্য অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই আলাপচারিতা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি মারাত্মক অপমান। ফ্যাসিবাদী শাসন দ্বারা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক লোকদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করা পলাতক দোষী সাব্যস্ত গণহত্যাকারী হাসিনা এবং তার অপরাধী সহযোগীদের ইতিহাসের জোয়ারকে বিপরীত করার একটি বৃথা প্রচেষ্টা। বাংলাদেশের জনগণ অতীতে এ ধরনের জঘন্য প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং এখনো করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশের জনগণ দৃঢ় সংকল্প নিয়েছে যে, জাতি আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকার দিনগুলোতে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনো ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র হবে না। সাজাপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার মাফিয়া প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের রাজনীতিতে কখনো স্থান পাবে না।

বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়েছে, সার্বভৌম সাম্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও দূরদর্শী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। দুঃখজনকভাবে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে দোষী সাব্যস্ত অপরাধী হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিপরীতে, যে কোনো অজুহাতে তাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলার সুযোগ দেওয়া আমাদের জনগণের অনুভূতির জন্য গভীরভাবে ক্ষতিকর এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিকাশের জন্যও ক্ষতিকর।

শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Twitter
  • Digg
  • Linkedin
  • Reddit
  • Google Plus
  • Pinterest
  • Print
আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD