টাইমস নিউজ ডেস্ক:-
উজানের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা বাড়ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার ও আগামীকাল শুক্রবারের মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এদিকে নীলফামারীতে তিস্তার পানি কমতে শুরু করলেও নদীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
উজানের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নীলফামারীর তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে বুধবার সকালে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেলের পর থেকে তা দ্রুত কমতে শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টায় পানি বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, রাতে আবার পানি বাড়ার আশঙ্কা নেই।
তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে। নদীরক্ষা বাঁধের একাধিক স্থানে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটি অংশ ধসে পড়ায় স্থানীয় মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। শাকসবজি, ভুট্টা ও বাদামের ক্ষেতসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমিরও ক্ষতি হয়েছে।
ডোমার ও জলঢাকা উপজেলার নদীতীরবর্তী আটটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে ঘরবাড়ি, মসজিদ, কবরস্থান ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী এক দিনে রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী দুই দিন বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই সঙ্গে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানিও বাড়তে পারে। তিস্তা ও দুধকুমারের পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
ময়মনসিংহ অঞ্চলের সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদের পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে। আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার কিছু এলাকায় এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটি।
এ ছাড়া আগামী পাঁচ দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। গঙ্গা-পদ্মার পানি প্রথম দুই দিন স্থিতিশীল থাকলেও পরে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী ও হালদা নদীর পানিও বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশের আট বিভাগেই দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।