জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ত্রাণসামগ্রীর প্যাকেটে মেয়াদোত্তীর্ণ ও মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকা খাদ্যপণ্য পাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় দরিদ্র মানুষ ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সরকারি সহায়তার নামে এই ধরনের নিম্নমানের ও ক্ষতিকর খাদ্যপণ্য বিতরণ জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকি। ত্রাণের প্যাকেটের গায়ে অর্থবছর ২০২৪-২০২৫ উল্লেখ থাকলেও, এর ভেতরে থাকা অনেকগুলো পণ্যের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ মোছা কিংবা অনেক পুরোনো বলে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেলান্দহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সম্প্রতি এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু প্যাকেট খোলার পরই বেরিয়ে আসে আসল চিত্র। চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সাধারণ মানুষ। অনেক পণ্যেরই ইতিমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে অথবা মেয়াদের একদম শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে। এই বিষয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে দুস্থদের সহায়তার জন্য ত্রাণ পাঠানো হলেও একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও ডিলারের কারসাজিতে এই ধরনের অনিয়ম ঘটছে। সঠিকভাবে তদারকি না থাকায় গরিব মানুষের পাতে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার তুলে দেওয়া হচ্ছে, যা চরম অমানবিক। এই ধরনের ঘটনার পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের অনুসন্ধানে বিষয়টি সামনে আসার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অনিয়ম রোধে জেলা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মেলান্দহের সাধারণ মানুষ।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক