বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সংকট

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:৩৮ পূর্বাহ্ণ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতে দক্ষিণ কোরিয়া সামরিকভাবে যুক্ত হলে মারাত্মক পরিণতি হবে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সিউল কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির কৌশলগত স্বার্থ বিপন্ন হতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা। বিগত কয়েক দশক ধরে দক্ষিণ কোরিয়া মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেলের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানীকৃত জ্বালানির বড় একটি অংশ এই অঞ্চলের জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের কৌশলগত চাপে পড়ে দক্ষিণ কোরিয়া যদি সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তবে তা তাদের অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন মিত্র হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর এক ধরনের অদৃশ্য চাপ রয়েছে। তবে তেহরানের এই সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি সিউলকে এক জটিল ভূরাজনৈতিক ফাঁদে ফেলে দিয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব রক্ষা করা, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের বাণিজ্যিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—উভয় দিক সামলানো দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান সরকারের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতেও এমন অনেক সংকটে দক্ষিণ কোরিয়া কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে চলার চেষ্টা করেছে। তবে বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি উত্তপ্ত। বিশেষ করে শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে বিভিন্ন দেশের অবস্থান যেভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার এই সংকট তারই একটি নতুন রূপ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

সাংবাদিকদের বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গেও নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে সিউল। অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী এই দেশটি শেষ পর্যন্ত সামরিক সংঘাতে সরাসরি জড়ানো থেকে বিরত থাকবে এবং কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের পথ খুঁজবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালির বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং ইরানের কঠোর অবস্থান দক্ষিণ কোরিয়াকে তাদের দীর্ঘমেয়াদী মধ্যপ্রাচ্য নীতি নতুন করে মূল্যায়নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

আরববাংলা টিভি/ডেস্ক

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD