পাকিস্তান ও চীন তাদের অভিন্ন সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত যৌথ সীমান্ত কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করেছে। বুধবার ইসলামাবাদে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই কমিশনের উদ্বোধনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ জরিপ, বাণিজ্যিক করিডোর সুরক্ষা এবং কৌশলগত প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলো এই কমিশনের কার্যপরিধির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই কমিশন চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
এই যৌথ কমিশন গঠনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক્રিয়ায় জানানো হয়েছে যে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার অমীমাংসিত সীমান্ত অঞ্চলে এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন। বিশেষ করে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্ম বা আকসাই চিনের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এই কমিশন কার্যকর করার যেকোনো পদক্ষেপ ভারতের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেইজিং ও ইসলামাবাদের এই গোপন বোঝাপড়া মূলত দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তারের একটি সুদূর প্রসারী চক্রান্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন-পাক অর্থনৈতিক করিডোর বা সিপিইসি প্রকল্পের সুরক্ষাকে আরও সুসংহত করতেই এই যৌথ সীমান্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। বর্তমান পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এই দুই দেশের কৌশলগত মিতালি ভারতের ওপর বাড়তি ভূরাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে, এই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি হলে তা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে। বেইজিং ও ইসলামাবাদের এই যৌথ উদ্যোগের ফলে আগামী দিনে কূটনৈতিক সম্পর্কের পারদ আরও উর্ধমুখী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক