সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেছেন, দখলকৃত গোলান মালভূমি সিরিয়ার অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড হিসেবেই থাকবে এবং এর ওপর দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোলান মালভূমি ইসরাইলের সামরিক দখলে রয়েছে। দীর্ঘ এই সংঘাতের ধারাবাহিকতায় ১৯৮১ সালে অঞ্চলটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার ঘোষণা দিয়েছিল ইসরাইল, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের কাছেই অস্বীকৃত।
বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে প্রেসিডেন্ট আল-শারা এই দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা দেন। বৈশ্বিক এই মঞ্চে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত, ফিলিস্তিন সংকট এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের প্রস্তাবনা অনুযায়ী গোলান মালভূমি সিরিয়ার সার্বভৌম সীডার অন্তর্ভুক্ত এবং এই বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের এই প্ল্যাটফর্ম থেকে সিরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের এমন জোরালো বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে বর্তমান আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে সিরিয়ার ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা বজায় রাখার বিষয়ে এটি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গোলান মালভূমি ফেরৎ পাওয়ার দাবি সিরিয়ার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির একটি অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। জাতিসংঘে দেওয়া এই ভাষণের মধ্য দিয়ে সেই অবস্থানই পুনরায় বিশ্ববাসীর সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরা হলো।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক