গোপালগঞ্জে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জেলা সদস্য পদ থেকে লিখিতভাবে পদত্যাগ করেছেন কার্যতঃ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা জানে আলম বিরু মিয়া। শনিবার (২৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যে এই পদত্যাগের ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যতঃ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের পদত্যাগ বা রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পদত্যাগকারী নেতা জানে আলম বিরু মিয়া সাংবাদিকদের জানান, তিনি ব্যক্তিগত শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের ভারে ন্যুব্জ থাকার কারণে দলের কার্যক্রমে আর সময় দিতে পারছেন না। তাই স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে তিনি জেলা কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কার্যতঃ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে একধরনের মানসিক অস্বস্তি ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে এমন পদত্যাগের মাধ্যমে।
গোপালগঞ্জ জেলাজুড়ে এই পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে দলটির কেন্দ্রীয় শীর্ষ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে কিংবা নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। বিশেষ করে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর কার্যতঃ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম কার্যত থমকে গেছে। এই পরিস্থিতিতে জেলা পর্যায়ের নেতার এমন পদত্যাগ আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক