কিউবা যেন ভিন্ন পথ বেছে নেয়, এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যারা মনে করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে, তারা কঠিন ভুল করছেন। কিউবার বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর কঠোর সমালোচনা করে ওয়াশিংটন এই হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, লাতিন আমেরিকার এই দ্বীপরাষ্ট্রটির নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন প্রশাসনের নীতিনির্ধারকরা বিশ্বাস করেন যে, কিউবার বর্তমান সরকারের উচিত দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার নীতি পরিহার করে মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের দিকে এগিয়ে যাওয়া। অন্যথায় দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন কড়া বার্তা কিউবার ওপর দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের বৈদেশিক নীতির মূল ধারায় কিউবা বিরোধিতার বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে স্থান পেয়েছে। ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, কিউবার সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলানোর কোনো সহজ পথ এই মুহূর্তে খোলা নেই, যদি না হাভানা প্রশাসন কাঠামোগত পরিবর্তনে রাজি হয়।
এই পরিস্থিতিতে কিউবার পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে মার্কিন হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা প্রশমনে উভয় পক্ষই অনড় অবস্থানে রয়েছে, যা আগামী দিনে ক্যারিবীয় অঞ্চলে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াতে পারে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক