গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ভাল্লুকবেড়, পামওয়েল বাজার, গন্দ্রেকচালা, ধূলিগড়া ও সাতকুড়া এলাকায় পাগলা শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২০ জন সাধারণ মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। হঠাৎ করে শিয়ালের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় এবং একের পর এক লোকজনকে কামড়ানোর ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও ভীতি ছড়িয়ে পড়ে যে কোনো মুহূর্তে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার সকালে ক্ষিপ্ত ও আতঙ্কিত স্থানীয় জনতা একত্রিত হয়ে চিরুনি অভিযান চালিয়ে তিনটি পাগলা শিয়ালকে পিটিয়ে হত্যা করে। শিয়ালগুলোকে নিধনের পর এলাকাবাসীর মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরে এলেও জনমনে আতঙ্ক কাটেনি। ঘটনার পরপরই আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন স্থানীয় ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তারা জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল জানিয়েছেন, বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকাগুলোতে প্রায়শই বন্যপ্রাণীর এমন আক্রমণ দেখা যায়। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছিল যখন শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামল বা পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগকে দ্রুত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর এবং বন্যপ্রাণী নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক