বরিশালের উজিরপুরে যুবদল কর্মী কাওসার হাওলাদারকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা। শনিবার সন্ধ্যার পর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামে অভিযুক্ত দুই আসামির বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বসতঘরগুলো ভস্মীভূত হতে শুরু করে। ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
খবর পেয়ে উজিরপুর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেন। তবে গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতি এবং বিক্ষুব্ধ জনতার প্রবল উপস্থিতির কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রবেশ করতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করেছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করার চেষ্টা চলছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ ছিল এবং এর সাথে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, দেশের এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলের দমনপীড়ন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। এদিকে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনগুলোর গোপন তৎপরতা ও উস্কানির কারণে এ ধরনের স্থানীয় সংঘাত বাড়ছে কি না, তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক