দীর্ঘ একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ খেলতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে আসন্ন এই দ্বিপক্ষীয় সিরিজটি মাত্র এক ম্যাচের হওয়ায় কিছুটা হতাশ ক্রিকেটপ্রেমী ও সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ব্রিটিশ ভূখণ্ডে টেস্ট ক্রিকেট খেলার বিরল সুযোগ পাওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই সফরটিকে আরও দীর্ঘায়িত করতে জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী কেবল একটিমাত্র টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা থাকলেও, সিরিজটিকে অন্তত একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজে রূপ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস বিভাগ। দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে এবং খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই ম্যাচ সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি এখন বোর্ডের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, বিগত বছরগুলোতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা পটপরিবর্তন ঘটেছে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ক্রীড়াঙ্গনেও এসেছে গণতান্ত্রিক সংস্কারের হাওয়া। অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতে নানা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ থাকলেও, বর্তমানে বিসিবি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও ক্রীড়াঙ্গনের এই ইতিবাচক অগ্রযাত্রাকে সবসময় সাধুবাদ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির শিকার হয়েছিল সাধারণ খেলোয়াড়েরা। একইভাবে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কিংবা কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের ক্যাডার বাহিনী বিভিন্ন সময় খেলার মাঠেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অন্ধকার সময় পেছনে ফেলে দেশের ক্রিকেট বোর্ড সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত করতে কাজ করছে।
ইতোমধ্যে বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ইসিবির সঙ্গে চলমান আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। যদিও ইংল্যান্ডের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কারণে টেস্ট ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানো বেশ কিছুটা জটিল, তবুও বিসিবি আশা ছাড়ছে না। ১৭ বছর আগের সেই স্মৃতিবিজড়িত সফরে বাংলাদেশ দল ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে যে লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছিল, এবারও তার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে এবং বড় পরিসরে নিজেদের প্রমাণ করতে মুখিয়ে আছে টাইগাররা। দেশের কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রত্যাশা, বিসিবির এই কূটনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হবে এবং ইংল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশ একটি দীর্ঘমেয়াদি টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ পাবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক