আটটি যুদ্ধ বন্ধ করেছেন—এমন দাবি করে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ ও মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাইকে দেওয়ার পর তিনি পুরস্কার প্রদানকারী নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তার প্রশাসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান আটটি বড় সংঘাত বা যুদ্ধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও গবেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই দাবির পেছনে অতিরঞ্জিত তথ্য রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে যে সংঘাতগুলোর অবসান ঘটার কথা তিনি বলছেন, সেগুলোর মূল কৃতিত্ব সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের একক মধ্যস্থতার নয়, বরং স্থানীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ এর পেছনে কাজ করেছিল। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ কিছু অঞ্চলে তার নেওয়া কিছু নীতি দীর্ঘমেয়াদে সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল বলেও মত দিয়েছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। নোবেল শান্তি পুরস্কারের ক্ষেত্রে সাধারণত বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘমেয়াদী অবদান, নিরস্ত্রীকরণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার মতো বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদে কিছু ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, তার বিতর্কিত পররাষ্ট্রনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভেদের কারণে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা নিয়ে বরাবরই বিতর্ক ছিল। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ঐতিহ্যগতভাবেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নেয়, যা এবারও বজায় রাখা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রাম্পের এই ক্ষোভ প্রকাশ এবং নোবেল পুরস্কার নিয়ে তার মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বিশ্লেষকরা জানান, ট্রাম্পের এমন দাবি তার রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হতে পারে, যা প্রকৃত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সবসময় সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক