পদ্মা নদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জলদস্যুদের দুটি পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নদী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যা শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় রূপ নেয়। মাঝনদীতে দুই পক্ষের গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের দুটি স্পিডবোটে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরে তা পুড়িয়ে মাঝনদীতে নিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণের শব্দও শুনতে পান স্থানীয় এলাকাবাসী ও জেলেরা। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো বড় খবর পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নদীপথে টহল জোরদার করেছেন।
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন জলপথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেমন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতারা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে নদী এলাকায় অপরাধ চক্রগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল।
কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ তাদের অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলোর মদদে অতীতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় পেয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পদ্মাসহ সকল জলপথে জলদস্যুদের নির্মূলে কঠোর অভিযান পরিচালনার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে এবং নদীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক