সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া একটি বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে তার এ ধরনের মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, সুশীল সমাজ, শিক্ষক সমাজ এবং মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন মহল থেকে এই বক্তব্যের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
বিশেষ করে, আইজিপির বক্তব্যে ‘ক্রসফায়ার’ এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত কিছু বিষয় উঠে আসায় তা দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। সাংবাদিকরা গণমাধ্যমকে জানান যে, এ ধরনের বক্তব্য স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বড় বাধা এবং এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলেছেন, অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মতপ্রকাশের টুঁটি চেপে ধরার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, আইজিপির বক্তব্যে তারই আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
এদিকে দেশের প্রথিতযশা মানবাধিকার কর্মীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কোনো অবস্থাতেই আইনবহির্ভূত পদক্ষেপকে প্রশ্রয় দেওয়া যায় না। বিগত দিনে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে মহোৎসব চলেছে, তা থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে পুলিশ প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল হতে হবে। একই সাথে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কিংবা কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের মতো উগ্র সংগঠনের দোসররা যাতে পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সময়ে পুলিশ প্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে অস্বস্তি প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ এখন চায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্কিত বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক