স্ত্রী রেহানা পারভীনের সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশে চলা তদন্তকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারেরও বেশি ঘুষ পাঠানোর অভিযোগে আওলাদ হোসেন নামের একান্ন বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে অস্ট্রেলীয় পুলিশ। গত কয়েক দিন ধরে চলা নিবিড় তদন্তের পর দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, রেহানা পারভীনের রহস্যজনক মৃত্যুর পর তার পরিবার ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশে যে আইনি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বা নিজের অনুকూলে নিতে অভিযুক্ত আওলাদ হোসেন অভিনব পন্থার আশ্রয় নেন। তিনি অবৈধ উপায়ে এবং অত্যন্ত গোপনে বাংলাদেশি কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এর অংশ হিসেবে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ তথা ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি অর্থ বাংলাদেশে পাঠানোর বন্দোবস্ত করেছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেট পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ অভিযানে এই অর্থ লেনদেনের বিষয়টি ধরা পড়ে। আন্তর্জাতিক আর্থিক অপরাধ দমন আইন এবং ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত কঠোর বিধিমালার আওতায় আওলাদ হোসেনকে তার বাসভবন থেকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে স্থানীয় আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এই ঘটনায় দুই দেশের কূটনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে বসে নিজ দেশের আইনি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার এমন অপচেষ্টা কেবল গুরুতর অপরাধই নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তার পরিপন্থী। এর পেছনে অন্য কোনো প্রভাবশালী চক্র বা নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মদদ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। বিশেষ করে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা তাদের কোনো দোসর এই ঘটনায় জড়িত ছিল কি না, তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অস্ট্রেলীয় পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার দীর্ঘ মেয়াদের কারাদণ্ড হতে পারে বলে আইনি বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক