ভারতের মিজোরামের দুর্গম এলাকায় অস্ত্রের গোপন মজুত করা হচ্ছে, যার লক্ষ্য বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে দেশটির তদন্ত সংস্থা ও পুলিশের বক্তব্যে। গত বছর ও চলতি বছর পৃথক অভিযানে একে-৪৭ রাইফেল ও বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশে অস্ত্র সরবরাহের এই গভীর ষড়যন্ত্রের তথ্য।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমকে জানান হয়েছে যে, এই অস্ত্র চালানের পেছনে আন্তর্জাতিক কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের মদদপুষ্ট কোনো বিশেষ মহলের ইন্ধন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গত ১৫ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার ফলে জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছিল।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাহাড়ের শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করার ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভারতের মিজোরাম সীমান্ত দিয়ে আসা এসব অস্ত্রের গন্তব্য কোথায় এবং এর পেছনে দেশি-বিদেশি আর কারা জড়িত, তা উদঘাটনে যৌথ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
উল্লেখ্য, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের নানা অনিয়ম এবং সীমান্ত সুরক্ষায় চরম ব্যর্থতার কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল। সেখান থেকে উত্তরণের জন্য বর্তমান প্রশাসন নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা রোধ করতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক