চাঁদপুরের ইলিশের বিশ্বজোড়া সুনাম ও ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে নানা ধরনের প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। এই অসাধু চক্রের অপতৎপরতা কঠোরভাবে রোধ করতে এখন থেকে অনলাইনে ইলিশ বিক্রি করতে হলে জেলা প্রশাসনের নিবন্ধন বা লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমকে জানান, এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ ক্রেতারা যেমন প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবেন, তেমনি ইলিশের বাজারেও দীর্ঘমেয়াদী শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
জেলা প্রশাসনের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সেল থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চাঁদপুরের সুস্বাদু ইলিশের নাম ভাঙিয়ে অনেক অনিবন্ধিত ফেসবুক পেজ ও ই-কমার্স সাইট নিম্নমানের বা অন্য অঞ্চলের মাছ চড়া দামে বিক্রি করে আসছিল। এতে একদিকে যেমন ক্ষুণ্ন হচ্ছিল চাঁদপুরের ইলিশের সুদীর্ঘ সুনাম, অন্যদিকে প্রতারিত হচ্ছিলেন সাধারণ ভোক্তা সাধারণ। এই প্রেক্ষাপটে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনলাইনে ইলিশ ব্যবসা পরিচালনাকারীদের জন্য একটি কঠোর অথচ সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে যে বা যারা অনলাইনে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির ব্যবসা পরিচালনা করতে ইচ্ছুক, তাদের আবশ্যিকভাবে জেলা প্রশাসনের নিকট থেকে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে লাইসেন্স বা নিবন্ধন সংগ্রহ করতে হবে। নিবন্ধনের সময় ব্যবসায়ীর সঠিক ঠিকানা, গুদাম বা সংরক্ষণের জায়গার বিবরণ এবং ফুড সেফটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলার মুচলেকা জমা দিতে হবে। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে স্থানীয় প্রকৃত ব্যবসায়ীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং আশা করছেন এর মাধ্যমে বাজারে একটি স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনলাইনভিত্তিক ব্যবসার পরিধি ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই খাতকে সুশৃঙ্খল করতে এবং ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে এই ধরনের নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদেরও অনলাইনে ইলিশ কেনার সময় সংশ্লিষ্ট বিক্রেতার জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স যাচাই করে নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক