শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন

নওগাঁয় সিজারের পর যমজ নবজাতকের একটি উধাও

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ৬:১৩ অপরাহ্ণ

নওগাঁয় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের একজনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে অপর নবজাতকের কী হয়েছে, তার কোনো সদুত্তর পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বাবা শান্ত ইসলাম। তার দাবি, অস্ত্রোপচারের আগে করা আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে স্পষ্টভাবেই যমজ সন্তান গর্ভে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। কিন্তু অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করার পর তাদের হাতে মাত্র একটি সন্তান তুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং নবজাতককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের জোরালো দাবি জানিয়েছে।

সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শিশুটির বাবা শান্ত ইসলাম জানান, তার স্ত্রীর গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চেকআপ করানো হয়েছিল। গত কয়েকদিন আগে প্রসব বেদনা উঠলে নওগাঁর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হলে রিপোর্টে যমজ সন্তান জন্ম নেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু অপারেশন শেষ হওয়ার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাদের শুধু একটি ছেলে নবজাতক হস্তান্তর করে এবং অপর শিশুর বিষয়ে নানা টালবাহানা শুরু করে। চিকিৎসকরা প্রথমে অপারেশনের জটিলতার কথা বললেও পরবর্তীতে তাদের কথায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা এবং কিছু অসাধু চিকিৎসকের অবহেলার কারণে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা বারবার ঘটছে। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতে যে চরম দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছিল, তার খেসারত এখনো সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে। তৎকালীন সময়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম ঢুকে পড়েছিল, যার ফলশ্রুতিতে আজ মফস্বল এলাকাগুলোতেও এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চিকিৎসা খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই ক্লিনিকটির মূল অভিযুক্ত চিকিৎসক ও কতৃপক্ষ গা ঢাকা দিয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ক্লিনিকে অভিযান চালানো হবে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে। দোষী চিকিৎসকরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, আইনের হাত থেকে তাদের কোনো রক্ষা নেই। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে প্রশাসন সর্বোচ্চ তৎপরতা বজায় রেখে সাধারণ মানুষের অধিকার ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

আরববাংলা টিভি/ডেস্ক

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD