প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে। কখনো পরিবারের অমতে পালিয়ে, কখনো গোপনে। আবার পাত্র বা পাত্রী বিদেশে থাকায় ভিডিও কলেও বিয়ের আয়োজন করেন কেউ কেউ। অনেকে মনে করেন, মসজিদে গিয়ে দুই সাক্ষীর সামনে কবুল বললেই বিয়ে হয়ে যায়। কেউ আবার নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা বা এফিডেভিট করেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন। বর্তমান সময়ে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগায় বিয়ের মতো পবিত্র সামাজিক বন্ধন নিয়েও নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখা যাচ্ছে। অনেকেই না বুঝে বা শরীআতের সঠিক বিধান না জেনে এমন পন্থায় আবদ্ধ হচ্ছেন, যা পরবর্তীতে আইনগত ও ধর্মীয় উভয় দিক থেকেই জটিলতার সৃষ্টি করছে।
ইসলামী শরিয়ত এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিয়ের কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত রয়েছে। কেবল ভিডিও কলে বা ইমো-হোয়াটসঅ্যাপে একে অপরকে কবুল বললেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ বলে গণ্য হয় কি না, এ নিয়ে যুগ যুগ ধরে ইসলামী আইনবিদ ও মুফতিগণ বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন। বিয়ের মূল ভিত্তি হলো ইজাব ও কবুল, যা একই মজলিসে দুই পক্ষের সাক্ষী উপস্থিতিতে হতে হয়। ভিডিও কলের মাধ্যমে এই মজলিসের উপস্থিতি এবং সাক্ষীদের সত্যতা নিয়ে অনেক সময় আইনি ও শরিয়তের প্রশ্ন থেকেই যায়।
বিশেষজ্ঞ আইনজীবী ও ইসলাম ধর্ীয় পন্ডিতরা গণমাধ্যমকে জানান, বিয়ে কেবল দুই ব্যক্তির মনের মিল বা শুধু ভিডিও কলে শব্দ উচ্চারণের বিষয় নয়, এর সাথে সমাজ, পরিবার এবং রাষ্ট্রের আইনি স্বীকৃতি জড়িত। নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে কেবল এফিডেভিট করে বিয়ে সম্পন্ন করা হলে তা অনেক সময় আদালতের বিচারে সম্পূর্ণ বৈধতা পায় না, যদি না কাজি বা শরিয়তসম্মত উপায়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। তাই এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করে ধর্মীয় বিধিবিধান ও রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলা প্রতিটি নাগরিকের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক