যশোরের কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামে ধান ক্ষেতের পাশে একটি শ্যালো মেশিন ঘর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও এক পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত উভয়ের বয়স আনুমানিক পঁয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছরের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত শনিবার রাতে উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের একটি মাঠের মধ্যে অবস্থিত শ্যালো ইঞ্জিন চালিত সেচ ঘরের ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা কাছে গিয়ে দেখেন ঘরের ভেতরে দুটি মৃতদেহ পচে গলে একাকার হয়ে আছে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা বিষয়টি কেশবপুর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং চারপাশ ঘিরে ফেলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাদের পরনের পোশাক-আশাক ও শারীরিক অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, বেশ কিছুদিন আগেই তাদের হত্যা করে বা অন্য কোনো উপায়ে এখানে ফেলে রাখা হয়েছিল। পচন ধরার কারণে লাশের চেহারা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ বিকৃত হয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অপরাধ তদন্ত বিভাগের সিআইডি এবং পিবিআই টিমকে খবর দিয়েছেন যাতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় নিহতদের আসল পরিচয় শনাক্ত করা যায়।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসলে মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও গোয়েন্দা দলগুলো যৌথভাবে এই ক্লু-লেস ঘটনার রহস্যভেদে কাজ শুরু করেছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক