গাজায় নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, খাদ্য ও ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা মানুষের ওপর গুলিবর্ষণ, আবাসিক এলাকায় নির্বিচার হামলা এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও কৃষিজমি ধ্বংসের অভিযোগ নতুন নয়। এসব ঘটনার অনেকগুলোর পক্ষে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। গাজায় চলমান এই অমানবিক পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো নৃশংসতার পেছনে ইসরাইলি সেনাদের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ও মানসিক গঠনের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যে জানা যায়, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ভেতরে তরুণ সেনাদের এমন এক মানসিকতায় গড়ে তোলা হয় যেখানে আরবদের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব এবং ফিলিস্তিনি ভূমি নিয়ে উগ্র ধারণা প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো সেনাদের নৈতিক দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে উদ্বুদ্ধ করা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মনস্তাত্ত্বিক কসরতের ফলে সেনাদের একটি বড় অংশ মানবাধিকারের তোয়াক্কা না করে নির্দেশ পালন করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরনের উগ্র ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রশিক্ষণ কেবল বর্তমান সংঘাতকেই দীর্ঘায়িত করছে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথকেও চিরতরে বন্ধ করে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার এই ধরনের সামরিক সংস্কৃতির সমালোচনা করলেও ইসরাইলি নীতিনির্ধারকরা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। ফলে গাজা ও পশ্চিম তীরে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং এর কোনো দৃশ্যমান সমাধান এখনো তৈরি হয়নি।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক