যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের একটি ব্যর্থ চেষ্টার এক মাস পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ক্রিস্টা পাইক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই লোমহর্ষক ঘটনার পর থেকে এখনো চরম শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন তিনি। আইনগত প্রক্রিয়া এবং শাস্তির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, মৃত্যুঝুঁকি থেকে সাময়িকভাবে বেঁচে ফিরলেও তার ভেতরের ট্রমা কাটেনি।
উল্লেখ্য, ক্রিস্টা পাইক ১৯৯০-এর দশকে একটি হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। টেনেসি অঙ্গরাজ্যে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে নানা জটিলতার কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এই ঘটনার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যপদ্ধতির অমানবিকতা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আবারও জোরালো প্রশ্ন তুলেছে। ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট অধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা বন্দির ওপর অমানসিক মানসিক চাপ সৃষ্টি করে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বিচারব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রাণঘাতী ইনজেকশন বা ওষুধের কার্যকারিতা এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারিত মাত্রার ওষুধ প্রয়োগের পরও আসামির মৃত্যু না হওয়ার নজির রয়েছে, যা পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের জন্ম দেয়। ক্রিস্টা পাইকের এই নতুন বক্তব্য বিশ্বজুড়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দেশগুলোর বিচারপদ্ধতি এবং শাস্তির নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত করেছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক