দেশের যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদের জন্য বিদেশে কাজের সুযোগ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। তবে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে কোনোভাবেই যেন আমাদের যুবসমাজ প্রতারণার শিকার না হয় কিংবা আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বাত্মক সতর্ক থাকতে হবে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসে গমনেচ্ছু তরুণদের সাথে প্রতারণার নানা অভিযোগ পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সতর্কতা আরও জোরালো করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাটোরের লালপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে কিছু অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্রের অপতৎপরতার কারণে সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিদেশে জনশক্তি প্রেরণের নামে সিন্ডিকেট তৈরি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হয়েছে। এমনকি কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন সময় লুটপাটের কারণে যুবসমাজ আজ দিশাহারা। তাই বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে দেশের মেহনতি ও তরুণ সমাজকে দালালদের হাত থেকে রক্ষা করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়াতে হবে বলে উপস্থিত বক্তারা মত প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকার বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন নতুন বাজার খোঁজার পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ওপর কঠোর মনিটরিং চালুর ব্যবস্থা করেছে। যুবসমাজ দেশের মূল চালিকাশক্তি, তাই তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে কোনো অপরাধী চক্র পার পাবে না। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে গতিশীল রাখতে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও স্বচ্ছ করতে যুবসমাজকে সচেতন হওয়ার এবং যেকোনো সন্দেহজনক তথ্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক