ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে উপস্থিতি এবং তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থারই এক বড় বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোট গণনা শুরু হয় এবং রাত পর্যন্ত প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও ফলাফলের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন। এদিকে এই জয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে বিজয় মিছিল নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন সাধারণ নেতাকর্মীরা।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বিজয়ী প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন এই জয়কে ঠাকুরগাঁওয়ের আপামর জনসাধারণের জয় বলে অভিহিত করেন। তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং জনগণের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে জনগণের রায় গণতন্ত্রকে আরও বেশি শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে এলাকার মানুষের কল্যাণে তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিগত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা গণতন্ত্রের টুটে টিপে ধরেছিল। সেই দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে। অতীতে এই অঞ্চলে নানা রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হলেও বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বিজয় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় ইতিবাচক বার্তা বয়ে এনেছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক