আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অনিয়ম চিহ্নিত করতে একটি স্বাধীন থার্ড আই বা তদারকি সত্তা গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান দুর্বল আইন সংশোধন করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকরী সংস্থায় রূপান্তর করার আহ্বান জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী, গুম থেকে ফেরত আসা ভুক্তভোগী, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সম্প্রতি রাজধানী আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় বক্তারা এই দাবি জানান। তারা বলেন, রাষ্ট্রে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, কার্যকর তদারকি ব্যবস্থার অভাবে সে সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা চরম রূপ নিয়েছিল।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সময়ে বিগত আমলের সব অনিয়ম ও অন্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া আবশ্যক। বিশেষ করে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানবাধিকার কমিশনকে যেভাবে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে কমিশনকে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার সময় এসেছে।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানবাধিকার সুরক্ষায় দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে এবং গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্বাধীন থার্ড আই গঠনের প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে আন্তরিক হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক