কুমিল্লার একটি আদালত প্রাঙ্গণে বিচারপ্রার্থী এক নারী বাদীকে প্রকাশ্যে চড়-থাপ্পড় ও মারধরের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী মহিলা লীগের এক নেত্রীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম চলাকালীন আদালতের চত্বরে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে একটি মামলার শুনানির জন্য মামলার বাদী ওই নারী কুমিল্লা আদালতে উপস্থিত হচ্ছিলেন। আজ শুনানি চলাকালীন বা এর ঠিক আগে আদালত প্রাঙ্গণের ভেতরেই বাদী নারীর ওপর চড়াও হন অভিযুক্ত নেত্রী। তিনি মামলার বাদীকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। আদালতের পবিত্র অঙ্গনে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন সহিংস ঘটনায় সেখানে উপস্থিত আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সময় আদালতের পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিচারকের নজরে আনা হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে কুমিল্লার আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলি দ্রুত কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন। বিচারকের নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ও আদালতের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তারা অভিযুক্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী মহিলা লীগের নেত্রী শাহনাজ আক্তার সুমনাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেন।
আটকের পর তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শাহনাজ আক্তার সুমনাকে আদালতের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাজতখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আদালত প্রাঙ্গণের মতো একটি সুরক্ষিত ও সংবেদনশীল স্থানে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করা এবং সহিংসতা চালানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও আইজীবীরা। আদালত সূত্রে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় পরবর্তী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক