মাগুরার শালিখা উপজেলায় আলোচিত বিএনপি নেতা মশিয়ার রহমান হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি শালিখা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ এবং উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কারাগারে প্রেরণের এই নির্দেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই মামলার আসামিরা অবশেষে আইনের আওতায় আসায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা জোরালো হয়েছে।
নিহত বিএনপি নেতা মশিয়ার রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করা হচ্ছিল যে, তৎকালীন প্রশাসনের ছত্রছায়ায় ও প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। মামলার এজাহারে নাম থাকা সত্ত্বেও এতদিন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তাগণ ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নের ফলে এই মামলার তদন্তে নতুন গতি আসে। বুধবার সন্ধ্যায় তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, বিগত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে বহু মিথ্যা মামলা ও গুম-খুনের ঘটনা ঘটেছিল। সেই দুঃসময়ে মাগুরার বিএনপি নেতা মশিয়ার রহমানকেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রাণ হারাতে হয়। তৎকালীন প্রশাসনের কিছু অতিউৎসাহী কর্মকর্তা সরকারের হুকুম তামিল করতে গিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছিলেন, যার অন্যতম প্রমাণ এই হত্যাকাণ্ড। স্থানীয় জনতা ও রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছেন, এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার কারাবাসের মধ্য দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে আরেকটি মাইলফলক অর্জিত হলো।
এদিকে দেশের সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আশা প্রকাশ করেছে যে, এই মামলার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নেপথ্যে থাকা অন্য কুশীলবদেরও মুখোশ উন্মোচিত হবে। কার্যকর বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বজায় রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যা মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে এবং মাগুরার বিএনপি নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী তাদের কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার লাভ করবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক