ময়মনসিংহ গফরগাঁও উপজেলায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই জ্বর, শরীর ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি ও তীব্র দুর্বলতাসহ ডেঙ্গুর নানা উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন বয়সী মানুষ চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন। গত এক মাসে কেবল এই হাসপাতালেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৬৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো সচেতন না হলে এবং মশার বিস্তার রোধ করা না গেলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা হলেও শয্যাসংকট ও রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে গ্রামীণ জনপদের পাশাপাশি পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারাও রয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রমের অভাব এবং জমে থাকা নোংরা পানি এডিস মশার বংশবৃদ্ধির প্রধান কারণ। গত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশ যখন একটি নতুন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে, তখন স্থানীয় পর্যায়ে ডেঙ্গুর মতো জনস্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর দ্রুত ও কার্যকর সমাধান অত্যন্ত জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘরবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার করা এবং জ্বর দেখা মাত্রই দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানোর তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে মশা নিধনে ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো এবং সচেতনতামূলক মাইকিং কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মাঠপর্যায়ে এর সুফল পেতে হলে নিয়মিত মনিটরিং এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক