ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় পাচার করা দুই বাংলাদেশি তরুণ অবশেষে দীর্ঘ উৎকণ্ঠা ও মর্মান্তিক নির্যাতন পেরিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। মানবপাচারকারী চক্রের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে তারা চরম বিপদের মুখে পড়েছিলেন। কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর পরই তাদের কাছ থেকে পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয় এবং পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে তাদের বিক্রি করে দেওয়া হয় স্থানীয় একটি কুখ্যাত স্ক্যাম সেন্টারে। সেখানে তাদের ওপর অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে জোরপূর্বক সাইবার অপরাধমূলক কার্যকলাপে বাধ্য করা হতো।
ভুক্তভোগী তরুণরা গণমাধ্যমকে জানান, স্ক্যাম সেন্টারের অন্ধকার জগৎ থেকে জীবন নিয়ে ফিরে আসা ছিল এক অসম্ভব লড়াই। দিনের পর দিন সাইবার প্রতারণার কাজে তাদের ব্যবহার করা হতো এবং সামান্য প্রতিবাদ করলেই নেমে আসত নির্মম শারীরিক নিগ্রহ। এদিকে তাদের পরিবার প্রিয়জনদের এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বিভিন্ন সচেতন মহলের সহযোগিতায় কম্বোডিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় ওই দুই তরুণকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাদের নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। বিমানবন্দর নেমে এই তরুণরা তাদের ওপর চলা বর্বরোচিত নির্যাতনের বর্ণনা দেন এবং সাধারণ যুবকদের এ ধরনের লোভনীয় চাকরির প্রলোভন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই মানবপাচার চক্রের সাথে জড়িত মূল হোতাদের গ্রেফতারে তৎপরতা আরও জোরদার করেছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক