দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত ধোঁয়ায় মাসের পর মাস ধরে শহর ও আশপাশের অঞ্চল ঢেকে থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার পালাংকারায়া শহরের শত শত শিক্ষার্থী। ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের পালাংকারায়া শহরে এই পরিবেশগত সংকট গত বেশ কিছুদিন ধরে চরম আকার ধারণ করেছে। দাবানলের আগুনের তীব্রতা এবং এর ফলে সৃষ্ট ঘন কালো ধোঁয়ায় এখানকার জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরাও এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। বাতাসে দূষণের মাত্রা বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে এসে সরকারের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে। স্থানীয় শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাদের প্রধান দাবি ছিল অবিলম্বে দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং বায়ু দূষণ রোধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও সময়মতো যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি, যার ফলে আজ এই নাভিশ্বাস ওঠার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবেশবিদ এবং চিকিৎসকরাও এই দাবানল ও ধোঁয়ার ভয়াবহতার বিষয়ে বারবার সতর্ক করে আসছেন। এর ফলে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগ মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছে যে, সরকার যদি দ্রুত এই বিষাক্ত ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ ও দাবানল নেভানোর স্থায়ী সমাধান করতে ব্যর্থ হয়, তবে তারা আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আয়োজক শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের এই আন্দোলন কেবল নিজেদের সুরক্ষার জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাসযোগ্য একটি সুস্থ পৃথিবী নিশ্চিত করার লড়াই। ইন্দোনেশিয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে এবং কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টি ঝরানোর মতো পদক্ষেপ নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক