নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপদ্ধতি ও এর সামগ্রিক রূপরেখা নিয়ে একটি নতুন আইডিয়া বা ধারণা পেয়েছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। আজ শনিবার সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনের অধ্যাপক ও সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই নতুন ধারণাটি উঠে আসে। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী আইন বিশেষজ্ঞরা সংবিধানের বিভিন্ন ধারা সংশোধন করে কীভাবে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা যায়, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তারা জানান, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব। বিগত দিনে фактически নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের একদলীয় শাসনব্যবস্থার কারণে দেশের সংবিধান ও বিচার বিভাগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই জবরদস্তিমূলক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধ করতে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধান বের করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) মতো দলগুলোও দীর্ঘদিন ধরে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবসময় জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ সবসময় ঐক্যবদ্ধ থেকেছে। আজকের এই বৈঠকে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে জনগণের মৌলিক অধিকার ও ভোটের অধিকার চিরতরে সুরক্ষিত করার বিষয়ে সবাই ঐকমত্য পোষণ করেন।
সভায় সংবিধান সংশোধন কমিটির সদস্যরা উপস্থিত বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং তা নোট করেন। কমিটির প্রধান জানান, প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে, যা পরবর্তীতে সংসদ ও জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে চিরতরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং কোনো স্বৈরাচার যেন ভবিষ্যতে আর একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, সে জন্য এই সংবিধান সংস্কার অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক