ভারতের আসাম রাজ্যে বিপুলসংখ্যক মুসলিম পরিবারের বসতবাড়ি ও ঐতিহাসিক মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এমপি। এক বিবৃতিতে তিনি ভারত সরকারকে সংখ্যালঘু মুসলিমদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, আসামের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে উচ্ছেদ অভিয চালিয়ে প্রায় এক হাজার একশ ঘরবাড়ি এবং দশটিরও বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই আকস্মিক পদক্ষেপে গৃহহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, কোনো ধরনের পুনর্বাসন ছাড়া এভাবে বুলডোজার চালিয়ে মানুষের মাথার ওপর থেকে ছাদ কেড়ে নেওয়া চরম অমানবিক এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের উচিত সকল নাগরিকের ধর্মীয় ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর এ ধরনের নিপীড়নমূলক আচরণ দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অবিলম্বে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং তাদের পুনর্বাসনের জোর দাবি জানান।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসামের এই ঘটনার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়তে পারে। অতীতেও স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের নানা আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে জোরালো কোনো প্রতিবাদ জানানো হতো না। কিন্তু বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা মুসলিম স্বার্থ ও অধিকারের বিষয়ে অনেক বেশি সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক