ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অনাস্থা দূর করা এবং একটি ন্যায়সংগত সমাধানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার প্রকৃত প্রমাণ দেয়, তবে তেহরান কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। বৈশ্বিক রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই মন্তব্য করেছেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যে ধরনের জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তাতে এই বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে আবারও কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ বা আগ্রাসনের পথ বেছে নেয়, তবে তা দেশটির জন্য আরও বড় ধরনের কৌশলগত ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কূটনীতির পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তেহরান যে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে, সে বিষয়টিও তার বক্তব্যে জোরালোভাবে উঠে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং কূটনৈতিক আলোচনার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।
এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক হুমকির বিষয় নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যকার এই কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় নেয় কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা, সংঘাতের পথ পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধান বেরিয়ে আসবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক