চট্টগ্রামের জেএম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপে বক্তব্যে রাখছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ধর্ম-বর্ণ কিংবা ঐতিহাসিক ভূমিকা বিবেচনা না করে সম্পূর্ণ প্রয়োজনের ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, চলতি বছরেই দেশের প্রায় ৪১ লাখ গৃহকর্ত্রীর হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও বেশি গণমুখী ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন সময় ত্রাণ ও সহায়তা বিতরণে স্বজনপ্রীতি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাবের অভিযোগ উঠলেও, বর্তমান প্রশাসন সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করতে এবং প্রকৃত দুস্থ ও প্রান্তিক পরিবারগুলোকে সরাসরি সরকারি সহায়তার আওতায় আনতে এই ফ্যামিলি কার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
উল্লেখ্য, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিভিন্ন সুবিধা প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ ছিল। তৎকালীন সময়ে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও তাদের অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দ্বারা সুবিধাভোগী তালিকা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার বহু প্রমাণ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। সেই দুর্নীতির জাল ভেদ করে এখন প্রকৃত নারীদের হাতে সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, এই ফ্যামিলি কার্ড সরাসরি পরিবারের নারী প্রধান বা গৃহকর্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ডিজিটাল ওয়ালেটে যুক্ত থাকবে। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি বন্ধ হবে এবং রাষ্ট্রের বরাদ্দকৃত অর্থ সরাসরি সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছাবে। আগামী মাস থেকেই এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় এটি বিস্তৃত করা হবে। দেশের অর্থনীতিতে নারীদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী করে তুলতে এই উদ্যোগ দূরবর্তী সুফল বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরাও।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক