ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার সম্ভাবনা গভীরভাবে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান জোরদার করতে এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার করতে দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা এমওএবি ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে এই সম্ভাব্য হামলা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইতিমধ্যে সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে। এখন কেবল হোয়াইট হাউসের সবুজ সংকেত এবং চূড়ান্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে। পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন যে, এই ধরনের ধ্বংসাত্মক অস্ত্র প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানের ভূগর্ভস্থ সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা সম্ভব হবে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ওয়াশিংটন।
গত কিছুদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, তার পেছনে মার্কিন মিত্রদের সুরক্ষার যুক্তি দেখানো হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে এবং যেকোনো সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে আন্তর্জাতিক শান্তিপ্রিয় দেশগুলো এই ধরনের বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এমওএবি বোমার মতো বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহার মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর পরিস্থিতিকে আরও বেশি অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং এর ফলে এক রক্তক্ষয়ী আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা হতে পারে।
বর্তমানে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এই বিষয়ে দফায় দফায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা আঞ্চলিক পরিস্থিতি সার্বিক দিক থেকে মূল্যায়ন করছেন। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সরাসরি সামরিক হামলা চালানোর চেয়ে কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখাকেই শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। তা সত্ত্বেও, সামরিক বিকল্প হিসেবে এমওএবি বোমা ব্যবহারের প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা টেবিলের ওপরেই রাখা হয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে বাস্তবায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক