সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার বন্ধে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে জোরালো প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। বুধবার ১৪ অক্টোবর এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একটি সাম্প্রতিক বিবৃতি সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এই কূটনৈতিক অবস্থানের কথা প্রকাশ করেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট করা হয় যে, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং সকল সম্প্রদায়ের নাগরিকদের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বিগত দিনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মহলে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। তারই প্রেক্ষিতে ভারতীয় কূটনৈতিক মহল এই বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সুরক্ষা একটি দীর্ঘমেয়াদী ও স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের পতন পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং তার প্রভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তা উত্তরণে বর্তমান প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও ভারত আরও দৃশ্যমান ও জোরালো ভূমিকার প্রত্যাশা করছে।
এ বিষয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং নীতিনির্ধারক মহলও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। তারা মনে করছেন, দেশের ভেতরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব। সরকারের নীতিনির্ধারকরাও বারবার আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক