সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে ইরানের ২৩ বছর বয়সী তরুণী নাজমেহ আমিনিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করা ও সরকারবিরোধী প্রচার চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়। বিচার প্রক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরই এই কঠোর রায় ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ইরানের বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইসলাম ধর্ম ও পবিত্র ব্যক্তিত্বদের অবমাননা করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তরুণী নাজমেহ আমিনি অনলাইনে দেশের প্রচলিত কঠোর আইন লঙ্ঘন করে এমন সব কন্টেন্ট শেয়ার করেছিলেন, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি স্বরূপ ছিল বলে আদালত মনে করে। বিচার চলাকালীন আসামিপক্ষ পর্যাপ্ত আইনি সহায়তা পেলেও অপরাধের মাত্রা গুরুতর হওয়ায় বিচারক সর্বোচ্চ শাস্তির রায় দেন।
এই রায় ঘোষণার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রতি এই মৃত্যুদণ্ডাদেশ অবিলম্বে বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, বাকস্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে এ ধরনের কঠোর শাস্তি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। অন্যদিকে, ইরানের রক্ষণশীল মহল আদালতের এই রায়কে সঠিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং সামাজিক কাঠামোর প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা বর্তমানে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক