অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ট্রান্সফার সার্টিফিকেটের অর্থাৎ টিসির আবেদন ফি আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এক আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক। দুদক কর্মকর্তাদের এই জোরালো পদক্ষেপে শিক্ষা বোর্ড চত্বরে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযানকালে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে তল্লাশি চালায় এবং প্রায় চার হাজার টিসি আবেদনের ফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, নিয়মের তোয়াক্কা না করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে তা আত্মসাৎ করে আসছে। এই অনিয়মের সাথে বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী সরাসরি জড়িত থাকতে পারে বলে প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।
সাংবাদিকদের এই বিষয়ে জানানো হয় যে, সংগৃহীত নথিপত্র ও ডিজিটাল ডেটা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে খুব শীঘ্রই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে গড়ে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট কীভাবে শিক্ষা খাতকে গ্রাস করেছিল, এই ঘটনা তারই একটি জলজ্যান্ত প্রমাণ। অথচ দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
শিক্ষা খাতের এই ধরনের অনিয়ম রোধে দেশজুড়ে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কষ্টের অর্থ আত্মসাৎকারী কোনো দুর্নীতিবাজকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। বোর্ডের বর্তমান প্রশাসনও এই তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক