বাংলাদেশ কোনো দেশ বা পক্ষকে খুশি করার জন্য নয়, সম্পূর্ণ নিজেদের প্রয়োজন এবং ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ কেনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সম্প্রতি কূটনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন আলোচনা ও গুঞ্জনের প্রেক্ষিতে তিনি এই বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে পরিষ্কার করেছেন। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, দেশের বিমান পরিবহন খাতের আধুনিকায়ন এবং যাত্রীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করার জন্যই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে বাণিজ্যিক আলোচনা চলছে।
এয়ারবাসের সাথে বিভিন্ন চুক্তির বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, চুক্তি বা ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাহ্যিক চাপ বা ভূরাজনৈতিক প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থই এর মূল ভিত্তি। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার আমলে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে নানামুখী অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সংস্কৃতি চালু থাকলেও, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন সেই ধারা থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে এসেছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, দেশের এভিয়েশন মার্কেট এখন অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক এবং উন্মুক্ত। জাতীয় পতাকামহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কিংবা বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এবং স্বচ্ছতার সাথে যেকোনো বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঠিক সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে তা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সরকারের এই স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও কূটনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অতীতেকার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় চুক্তির ক্ষেত্রে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, বর্তমান প্রশাসনের স্বচ্ছ নীতি তার থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করছে। সামনের দিনগুলোতে দেশের এভিয়েশন শিল্পে আরও বড় ধরনের বিনিয়োগ ও আধুনিকায়নের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক