রাজনীতি ও নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নির্বাচনি ব্যয় কমানো, রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন এবং নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবুল ফজল মুহম্মদ সানাউল্লাহ। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নারীদের জন্য একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমতল ক্ষেত্র তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইসি সানাউল্লাহ আরও বলেন যে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। ওই সময়ে নারীরা কেবল কোটাভিত্তিক রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ ছিলেন এবং প্রকৃত অর্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রiyay তাদের কোনো মূল্যায়ন করা হতো না। অথচ দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হলে রাজনীতিতে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।
সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব এবং পেশিশক্তির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ নারী প্রার্থীরা নির্বাচনে টিকে থাকতে পারেন না। বিশেষ করে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলোর দীর্ঘমেয়াদী অপরাধমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে নারীরা সবসময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন। কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে এই অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে এবং নারীদের জন্য নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
নির্বাচন কমিশন মনে করে, আগামী দিনে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হলে সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতেও নারীদের জন্য সংরক্ষিত কোটা নয়, বরং সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক