বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর অব. আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তাঁর নিজ এলাকা কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এই গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। কয়েক মাস আগে জামায়াতে ইসলামীর সাথে তাঁর রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার পর পরই স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং অবিলম্বে তাঁর মুক্তির দাবিতে কটিয়াদী উপজেলা সদরে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের দোসররা এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক গ্রেপ্তার চালাচ্ছে। তাঁরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
অন্যদিকে, সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে এই গ্রেপ্তার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণে আখতারুজ্জামানের ভূমিকা স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ প্রভাবশালী ছিল। বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পালাবদলে তাঁর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় মহলে নানা গুঞ্জন ছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও বিশৃঙ্খলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বিগত স্বৈরশাসনের আমলে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর যে নিপীড়ন চালানো হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদমুখর ছিলেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে প্রশাসনের কড়াকড়ি নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। কটিয়াদীর এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক