ঢাকা এবং দিল্লির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ ও কূটনৈতিক জটিলতা বিদ্যমান থাকলেও, দুই দেশের শীর্ষ দুই প্রধানের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমেই এই সমস্ত সমস্যার সুরাহা করা সম্ভব বলে জোরালো মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সাম্প্রতিক সময়ে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং পারস্পরিক আস্থার সংকট নিরসনে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সংলাপ অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
বুধবার এক কূটনৈতিক বৈঠকে এই অভিমত ব্যক্ত করে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান যে, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি দূর করা সম্ভব। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সৃষ্ট বিভিন্ন গোপন চুক্তি এবং একপেশে কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে এখন একটি নতুন এবং কার্যকর রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা, বাণিজ্য ঘাটতি এবং তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের মতো দীর্ঘমেয়াদী অমীমাংসিত ইস্যুগুলো সমাধানের জন্য উভয় দেশের সরকার প্রধানদের সদিচ্ছা এবং সরাসরি হস্তক্ষেপ একান্ত অপরিহার্য বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এদিকে কূটনৈতিক মহลের মতে, বর্তমান পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে একটি নতুন ও সমতার ভিত্তিতে দাঁড় করাতে হলে উভয় পক্ষেরই আন্তরিক প্রয়াস থাকতে হবে। বিগত দিনে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে যে নতজানু পররাষ্ট্র নীতি পরিচালিত হতো, তার অবসান ঘটিয়ে এখন একটি মর্যাদাপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় হাইকমিশনারের এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যকার চলমান শীতল সম্পর্ককে উষ্ণ করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের মাধ্যমে সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক