দেশে সাধারণ মানুষের নিখোঁজ হওয়া এবং রহস্যজনক খুনের ঘটনাগুলো এখন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন এলাকার আনাচে-কানাচে থেকে প্রতিদিন নিখোঁজ ও মৃতদেহ উদ্ধারের সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এসব ঘটনায় নিয়মিত মামলা বা সাধারণ ডায়েরি হলেও অধিকাংশ চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনার মূল রহস্য আজও উদঘাটিত হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জে মধুমতী নদীর শাখা খালে ভাসমান অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ভয়ের সঞ্চার হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে গুম ও বিচারবহির্ভূত killings-এর সংস্কৃতি চালুর পর থেকে অপরাধ চক্রগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তবে বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেমন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ তাদের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনগুলোর বিভিন্ন সময়ে চালানো নৈরাজ্য ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথেও এসব ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে অনেক সচেতন নাগরিক মনে করছেন। বিশেষ করে কার্যত নিষিদ্ধ যুবলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের ক্যাডাররা অতীতে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও অনেক ক্ষেত্রে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে।
এ বিষয়ে দেশের বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মীরা ও সাংবাদিকরা গণমাধ্যমকে জানান, অবিলম্বে নিখোঁজ হওয়া প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীদের কঠোর আইনের আওতায় আনতে না পারলে সামাজিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক