চট্টগ্রাম বন্দরে এক ট্রেইলার শ্রমিককে মারধরের গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে বন্দরের সকল কনটেইনার ডেলিভারি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছেন ট্রাক, প্রাইম মুভার ও ট্রেইলার চালক-শ্রমিকেরা। সোমবার বেলা ৩টা থেকে বন্দরের প্রধান গেটগুলো দিয়ে কনটেইনারবাহী ট্রেইলার ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের ভেতর থেকে আমদানি পণ্য পরিবহনে মারাত্মক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা গেছে, বন্দরের ভেতরে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কিছু ব্যক্তির সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে এক ট্রেইলার শ্রমিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবিতে শ্রমিকেরা তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধের ঘোষণা দেন। ঘটনার পর থেকে বন্দরের বিভিন্ন গেইটে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং শত শত পণ্যবাহী যান আটকা পড়ে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিগত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বন্দরের কার্যক্রমে বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও অব্যবস্থাপনা জেঁকে বসেছিল, যার ফলশ্রুতিতে প্রায়ই এ ধরনের শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটত। বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্দর কতৃপক্ষের সাথে শ্রমিক নেতাদের আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র গণমাধ্যমকে জানান। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে আসবে, তাই দ্রুত এই সমস্যার একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান অত্যন্ত জরুরি।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক