ইউরোপে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের কৃতি যুবক মেহেদী হাসান (৩০)। উন্নত ভবিষ্যতের আশায় বুক বেঁধে তিনি পা বাড়িয়েছিলেন এক অনিশ্চিত যাত্রার দিকে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ এক দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে। দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে তিনি এখন উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার একটি নির্মম মানবপাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে অত্যন্ত মানবেতর ও অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছেন। লিবিয়ার দুর্গম এলাকার একটি গোপন বন্দিশালায় তাকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ছেলের এমন মর্মান্তিক খবর শোনার পর থেকেই পাগলপ্রায় তার পরিবার। একমাত্র সন্তান ও পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে সর্বস্বান্ত হয়েছেন তারা। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে চটকদার ও চড়া সুদে প্রচুর ঋণ এবং নিজের শেষ সম্বল ভিটেবাড়িটুকু বন্ধক রেখে পাচারকারীদের দাবীকৃত মুক্তিপণের একটি বড় অংশ পরিশোধ করেছেন তার পরিবার। তবুও মেলেনি মুক্তি। প্রতিদিন নতুন নতুন অঙ্কের টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে পাচারকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া পরিবারটি বারবার সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছে, যেন যেকোনো উপায়ে মেহেদী হাসানকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
দেশের সাধারণ যুবসমাজকে এভাবে প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাচার করার মতো ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মানবপাচারকারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এ ধরনের অবৈধ অভিবাসন ও ঝুঁকিপ্রবণ পথ রোধে সরকারের পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক