ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসকের পদত্যাগ, দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন, পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি প্রতিবাদী বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের ব্যস্ততম দিনাজপুর রোডে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সৈয়দপুর শাখার সামনে এই কর্মসূচি পালন করে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’। ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদী দাবির অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি পালিত হয় বলে জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম বৃহৎ এই প্রতিষ্ঠানটিকে অতীতে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে এবং তার দোসরদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে পাচার করা হয়। ফলশ্রুতিতে সাধারণ গ্রাহক ও আমানতকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়। স্বৈরাচার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও ব্যাংকিং খাতের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার এবং পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা যাচ্ছে, যা গ্রাহকদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে বর্তমান প্রশাসকের অপসারণ এবং ব্যাংকের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে দক্ষ ও সৎ ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ গঠনের জোরালো দাবি জানান। এছাড়া বিগত দিনে এই প্রতিষ্ঠানে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের কষ্টের অর্জিত অর্থ সুরক্ষায় ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। কর্মসূচি থেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, গ্রাহকদের দাবি দ্রুত মেনে নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক