যশোরের চৌগাছায় চলতি মৌসুমে সরকারি গম সংগ্রহ অভিযানে এক কেজি গমও কিনতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। খোলাবাজারের তুলনায় সরকারি দর কম এবং জটিল নিয়মকানুনের কারণে কৃষকেরা সরকারি গুদামে গম বিক্রিতে আগ্রহ দেখাননি। গত কয়েক বছর ধরেই সরকারিভাবে ধান ও গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এমন স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা কৃষি অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, বাজারে গমের যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে তার চেয়ে অনেক কম মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া সরকারি গুদামে গম বিক্রি করতে গেলে নানা ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানির শিকার হতে হয়। আর্দ্রতা পরীক্ষা এবং মান নিয়ন্ত্রণের নামে কৃষকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, যা তাদের নিরুৎসাহিত করে। এর ফলে কৃষকেরা স্থানীয় হাট-বাজারেই ফর্টিফাইড বা উন্মুক্ত বাজারে অধিক মূল্যে ফসল বিক্রি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পর্যাপ্ত গম সংগ্রহের জন্য দফায় দফায় সময় বাড়িয়েও কোনো লাভ হয়নি। গুদাম শূন্য রেখেই সমাপ্তি টানতে হয়েছে চলতি মৌসুমের সংগ্রহ অভিযানের। এই পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তা ও সরকারি মজুদ সুরক্ষায় সংগ্রহ নীতিমালায় আরও বাস্তবসম্মত পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করছেন কৃষি অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় প্রতিবছরই এমন লোকসানি ও লক্ষ্যভ্রষ্ট পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক