কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া এলাকায় সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করার সময় একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যাওয়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় এক নারীসহ দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও কোস্ট গার্ডের যৌথ তৎপরতায় এ ঘটনায় আরও ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকৃতদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি, তবে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি মানবপাচারকারী চক্র টেকনাফের বিভিন্ন উপকূলীয় পয়েন্ট ব্যবহার করে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। লোভনীয় Offers দেখিয়ে সর্বস্বান্ত করা হচ্ছে সহজ-সরল মানুষকে। এ ধরনের অবৈধ অভিবাসন কেবল জীবনঝুঁকিই বাড়াচ্ছে না, বরং দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমল থেকেই এই মানবপাচার চক্রগুলো বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের যোগসাজশে এসব অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, সাগরপথে অবৈধ যাতায়াত রোধে কোস্ট গার্ড ও পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে রাতের আঁধারে কিংবা দুর্গম উপকূলীয় এলাকা দিয়ে পাচারকারীরা কীভাবে এই অপতৎপরতা চালাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল পাচারকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, শুধু উদ্ধার অভিযান নয়, বরং এই অবৈধ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে এ ঘটনার পর উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার এই আত্মঘাতী প্রবণতা রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও বেশি কঠোর ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ সমাজ যাতে এ ধরনের বিপজ্জনক পথে পা না বাড়ায়, সে বিষয়ে পরিবার ও সমাজকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজবিশ্লেষকরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক